১৭ মে ২০২৬ , রবিবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২৯ জিলকদ ১৪৪৭।
১৭ মে ২০২৬ , রবিবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২৯ জিলকদ ১৪৪৭।

বার্মিংহামে সাড়ম্বরে জাতীয় দিবস উদযাপন ও কূটনৈতিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠিত

।।বার্মিংহাম, ৩০ মার্চ ২০২৬।।

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে সাড়েম্বরে অনুষ্ঠিত হলো স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কূটনৈতিক অভ্যর্থনা। ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন কর্তৃক এই রিসেপশনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে রাজা চার্লস এর প্রতিনিধি লর্ড লেফটেন্যান্ট ডেরিক এন্ডারসন সিবিই। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পেরি বার এলাকার সংসদ সদস্য আইয়ুব খান, ওয়েস্ট ব্রোমিচ এলাকার সংসদ সদস্য মিজ্‌ সারাহ কুম্বেস, বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের লর্ড মেয়র কাউন্সিলর জাফর ইকবাল, সলিহল মেট্রোপলিটন কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলর এনেট ম্যাকেঞ্জি, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস-এর পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার সাইমন ফোস্টার, বার্মিংহাম কন্স্যুলার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও রোমানিয়ার কনসাল জেনারেল মাহায়েলা সাভু, পাকিস্তানের কনসাল জেনারেল ফাহাদ আমজাদ, ও ভারতের কনসাল জেনারেল ড. ভেঙ্কাটাচালাম মুরুগান। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকবৃন্দ, বার্মিংহামস্থ বাংলাদেশ সহকারী হাকমিশনের অধিক্ষেত্রাধীন বিভিন্ন শহরের মেয়র, ডেপুটি মেয়র, কাউন্সিলর, স্থানীয় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্র-ভিসি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ, স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অধ্যয়নরত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, নারী নেতৃবৃন্দ, ও সাংবাদিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ উভয়দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

সহকারী হাইকমিশনার সুজন দেবনাথ অনুষ্ঠান মঞ্চে রাজা চালর্স এর প্রতিনিধিকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ হতে সবাইকে ৫৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস- ২০২৬ এর শুভেচ্ছা জানান। সহকারী হাইকমিশনার ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য বার্মিংহামে বসবাসকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ হামিদকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। পরে তিনি প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের সাথে নিয়ে জাতীয় দিবসের কেক কাটেন। অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিকট বাংলাদেশকে তুলে ধরার নিমিত্ত বিশেষ প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাজা চার্লস-এর প্রতিনিধি লর্ড লেফটেন্যান্ট জনাব ডেরিক এন্ডারসন তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশের জনগনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদারে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

সমাপনী বক্তব্যে, সহকারী হাইকমিশনার মুক্তিযুদ্ধে শাহাদৎবরণকারী সকল শহিদ এবং দুই লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি ও তহবিল সংগ্রহের জন্য ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ বার্মিংহামস্থ স্মল হিথ পার্কে সমবেত বার্মিংহাম ও ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের কয়েক হাজার বাঙালির অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অবদান রাখার জন্য তৎকালীন যুক্তরাজ্য সরকার, ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সহায়তার জন্য উপস্থিত যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের এ অঞ্চলে বসবাসকারী প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণে আমন্ত্রিত অতিথিদের কাজ করার আহবান জানান। তিনি দেশ গঠনে বর্তমান সরকার ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে প্রবাসীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহনের আহবান জানান। তিনি মিশনের কার্যক্রম ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন এবং তা বাস্তবায়নে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সহকারী হাইকমিশনার বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্য বিশেষত পশ্চিম মিডল্যান্ডস অঞ্চলের নিবিড় যোগাযোগের রূপরেখা তুলে ধরেন। এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহবান জানান। নতুন সরকারের বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তুলে ধরে তিনি বাণিজ্য সম্পর্ক জোড়দারে সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দকে আহবান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশকে তুলে ধরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে আগত অতিথিদের জন্য বাংলাদেশী ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন সবার মাঝে

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on print
Print
Share on email
Email
Share on whatsapp
WhatsApp

কোন মন্তব্য নেই। আপনি প্রথম মন্তব্যটি করুন। on বার্মিংহামে সাড়ম্বরে জাতীয় দিবস উদযাপন ও কূটনৈতিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠিত

আপনি কি ভাবছেন ? আপনার মতামত লিখুুন।

এই বিভগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ