আশরাফুল ওয়াহিদ দুলাল:
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন (২০২৬) সামনে রেখে বার্মিংহামে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে লেবার পার্টি। এতে প্রায় এক ডজন সাবেক কাউন্সিলর বাদ পড়েছেন। এ নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া, বিভ্রান্তি এবং ক্ষোভের দেখা দিয়েছে। বাদ পড়া কাউন্সিলরদের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের বদলে নতুন প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে—যাঁরা দলের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং জয়লাভের সম্ভাবনাও বেশি বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
এই প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সদস্যদের কোনো অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা। তারা বলেন, পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে জাতীয় নেতৃত্বের অধীনে একটি স্বাধীন প্যানেল, যারা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এতে অনেকে মনে করছেন, পার্টির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কর্মীদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বাদ পড়াদের মধ্যে আছেন সদ্য সাবেক লর্ড মেয়র চমন লাল, যিনি ১৯৯৪ সাল থেকে সোহো ও জুয়েলারি কোয়ার্টারের প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন এবং ৩১ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার রয়েছে তাঁর। বাদ পড়েছেন ফ্রেড গ্রিনড্রডও, যিনি বর্নভিল ও কটারিজ ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত এবং আগে অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর সহকর্মী লিজ ক্লেমেন্টস, যিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করেছেন, বলেছেন—গ্রিনড্রডের মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে বাদ দেওয়া একেবারেই বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত।
এছাড়াও বাদ পড়েছেন ২৪ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা অভিজ্ঞ কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইদ্রীস (আলম রক), ও ২০০৪ সাল থেকে পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা বারবারা ড্রিং (অস্কট)। ব্রান্ডসউড ও কিংস হিথের কাউন্সিলর ডেভিড বার্কারও বাদ পড়েছেন, যদিও তাঁকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এক সূত্র জানিয়েছে, যাঁরা কখনো পার্টির নীতিনির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—এমনকি অভ্যন্তরীণভাবে—তাঁদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।
ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্টকল্যান্ড গ্রিনের জেইন জোনস ও ওমর খান, হ্যান্ডসওয়ার্থ উডের গুরদিয়াল আটওয়াল, হ্যান্ডসওয়ার্থের হেন্ডরিনা কুইনেন, হোলিহেডের রিঙ্কাল শেরগিল এবং বার্চফিল্ডের মাহমুদ হুসাইন—সবাই বাদ পড়েছেন। একইসঙ্গে বাদ পড়েছেন নিউটাউনের জিয়াউল ইসলাম, পাইপ হেইসের বাশারাত মাহমুদ এবং বোর্ডসলে ও হাইগেটের ইভন মোসকুইটো, যদিও ধারণা করা হচ্ছে মোসকুইটো সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই নিজে থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
একজন কাউন্সিলর অভিযোগ করেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি ‘কাফকায়ান’ ধরনের—যেখানে বাদ দেওয়ার কোনো যুক্তি বা কারণ জানানো হয়নি। তবে দলের একাধিক সূত্র বলছে, কাউন্সিলর হওয়া কোনো অধিকার নয় এবং যাঁরা নিজেদের মনোনয়ন নিশ্চিত বলে ধরে নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই বাস্তবতা বুঝছেন না। কিছু ক্ষেত্রে নতুন প্রার্থীদের মনোনয়ন দলীয়ভাবে সুফল বয়ে আনবে বলেও মন্তব্য এসেছে।
যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁরা আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন এবং নতুন প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এদিকে লেবার কাউন্সিলের বর্তমান মন্ত্রিসভার সব সদস্য, শুধু উপনেতা শারন থম্পসন ছাড়া (যিনি সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন), পুনরায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কেউ কেউ ওয়ার্ড পরিবর্তন করে জয়ের সম্ভাবনা বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন। যেমন, স্পার্কহিলের বর্তমান আবাসন মন্ত্রী নিকি ব্রেনান বোর্নভিল ও কটারিজ থেকে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নতুন মনোনীত প্রার্থীদের একজন জানিয়েছেন, “বন্ধুদের বাদ পড়া দুঃখজনক হলেও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আসনগুলো ধরে রাখা। নতুন প্রার্থীরা বিভিন্ন পটভূমি ও দক্ষতা নিয়ে আসবেন, যা দলের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।”
লেবার পার্টি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা জানিয়েছে, যাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সম্মতি পাওয়ার পরেই প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করা হবে—সম্ভবত এই সপ্তাহের শেষ দিকে। তবে পার্টি প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নির্বাচন লেবার পরিচালিত বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। পরিষেবায় বড় ধরনের বাজেট কাটছাঁট, সরকারনিযুক্ত কমিশনারদের অধীনে থাকা, এবং বর্জ্যকর্মীদের ধর্মঘটসহ নানা ইস্যুতে প্রশাসনের উপর ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রো-প্যালেস্টাইন অবস্থান থেকে গঠিত স্বতন্ত্র প্রার্থী, নতুন বামপন্থী জোট, শক্তিশালী রিফর্ম পার্টি, সংগঠিত কনজারভেটিভ, জনপ্রিয় লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও গ্রিন পার্টি—সবাই লেবারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে।






কোন মন্তব্য নেই। আপনি প্রথম মন্তব্যটি করুন। on বার্মিংহামে লেবার পার্টির কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাই নিয়ে দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভ